
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা হতাহত হন।
দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁর নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা। অন্য দুই নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকারীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ১১ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলেই আরও পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫) রয়েছেন। তাঁরা চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
রাতের এই দুর্ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপদ যাতায়াত ও দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বাসটির গতি, চালকের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার অন্যান্য কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।