সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোডাউন, দোকানপাট, মেশিন ও বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। এতে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিশ্বাস সুপার মার্কেটে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একতা প্লাজার কিছু স্থাপনাতেও।
খবর পেয়ে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মো. জহুরুল ইসলামের তুলার গোডাউন, মেশিন ও লেপ-তোষক পুড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মিলন হোসেনের ফ্রিজের গোডাউনে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।
জহুরুল ইসলামের ভাই সাখাওয়াত হোসেনের গোডাউন, মেশিন ও একটি মোটরসাইকেল পুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া আতিকুল ইসলামের দোকানে প্রায় ১০ লাখ, শফিক ইসলামের দোকানে পাঁচ লাখ এবং বিশ্বাস সুপার মার্কেটের মালিক হাসান বিশ্বাসের স্থাপনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।
পাশের একতা প্লাজার মালিক আমিনুল ইসলামের স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁর ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া এসব হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ভূঞাগাঁতী জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. নেজামুল ইসলাম জানান, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ে নিম্নমানের তার ব্যবহারের কারণে শর্টসার্কিট হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের আগে আগুনের কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, দোকানিরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।
রাতের অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।