মাদ্রাসার স্টল কার দখলে? তালাবন্দি ৫ লাখ টাকার পশু ও মাছের খাদ্য

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

বরগুনার আমতলীতে একটি দাখিল মাদ্রাসার ভাড়া দেওয়া স্টলে জোরপূর্বক তালা লাগিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন

2026-10-23T17:45:16+00:00
2026-10-23T17:45:16+00:00
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
মাদ্রাসার স্টল কার দখলে? তালাবন্দি ৫ লাখ টাকার পশু ও মাছের খাদ্য
আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বরগুনার আমতলীতে একটি দাখিল মাদ্রাসার ভাড়া দেওয়া স্টলে জোরপূর্বক তালা লাগিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এতে স্টলটিতে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পশু ও মাছের খাদ্য আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী। বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম। দ্রুত তালা খুলে স্টলটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার জমিতে নির্মিত মানিকঝুড়ি স্ট্যান্ডের একটি স্টলে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের শুক্রবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশে উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান সরদার এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন হাওলাদার ওই স্টলে তালা লাগিয়ে দেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের জমিতে মানিকঝুড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় সাতটি স্টল নির্মাণ করে। পরে স্টলগুলো ভাড়া দিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ।

গত ১ আগস্ট স্টলগুলোর মধ্যে মাদ্রাসা ভবনের সামনের একটি ঘর ব্যবসায়ী মো. সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদারকে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে তিনি পশু ও মাছের খাদ্য বিক্রি করতেন।

অভিযোগ, গত বুধবার রাতে ওই স্টলে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে দোকানের ভেতরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পণ্য আটকা পড়ে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন রিপন।

ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদার বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে তিনি স্টলটিতে ব্যবসা করছিলেন। বুধবার রাতে শাহজাহান সরদার ও মোশাররফ হাওলাদার সেখানে তালা লাগিয়ে দেন। এতে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত স্টল খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, স্টলে তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করে শাহজাহান সরদার দাবি করেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘরটি তাঁকে ভাড়া দিয়েছে। তাই তিনি নিজের ঘরে তালা দিয়েছেন। তবে ভাড়ার চুক্তিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহজাহান আরও দাবি করেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশে তিনি তালা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন হাওলাদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি জানার পর বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন হাসান শাহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর নির্দেশের পরও তালা খোলা হয়নি বলে অভিযোগ।

হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, বিষয়টি জানার পর দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তিনি তালা খুলে দিতে বলেছেন। দলের কেউ অপরাধ করলে তার দায়ভার দল নেবে না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার স্টলে জোরপূর্বক তালা লাগানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, যারা স্টলে তালা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদ্রাসার স্টলটি কাকে বৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, ভাড়ার কোনো চুক্তি রয়েছে কি না এবং কার নির্দেশে তালা লাগানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা ও স্টলের ভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা জরুরি।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: