মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। এ সময় সাতটি মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৫০ কেজি ইলিশ ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত চারটি নৌকা।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ এসব তথ্য জানায়। আটক জেলেদের মধ্যে ২০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ১০ জেলেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০ জনকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় নৌ-পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদর নৌ-থানা, মোহনপুর ও হরিনা পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন ইউনিট পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে জেলেদের আটক করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় ইলিশ ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকা।
আটক ৫০ জেলের মধ্যে ২০ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ১০ জেলেকে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য ২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদপুর নৌ-পুলিশ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌ-পুলিশের একাধিক ইউনিট সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে নির্বিঘ্নে প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ইলিশের উৎপাদন ও বংশবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।