কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি দখল, দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হবে।
গত ২২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুদ রানা বাবু নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, জমি দখল ও ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রভাবিত করতে ওসির বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে।
স্ক্রিনশটে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্য
প্রচারিত স্ক্রিনশট অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত নম্বর থেকে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা সেন্ড মানি করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে লেনদেনের উদ্দেশ্য বা সেটি ঘুষের অর্থ কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিকাশ অ্যাকাউন্টের আনুষ্ঠানিক স্টেটমেন্ট ও অন্যান্য তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার ওসির
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তবে তিনি কোনো লেনদেন করেননি। গত ৩ অক্টোবর তাঁর নম্বরে কে বা কারা টাকা পাঠিয়েছে, তা তিনি দেখেননি বলেও জানান।
ওসি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
লিখিত অভিযোগ পেলে যাচাই করবে পুলিশ
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু মুছা শেখ বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিকাশের কল সেন্টার থেকে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে লেনদেন যাচাই করা হবে। তদন্তে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমি নিয়ে বিরোধ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা এবং ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে। এক পক্ষ জমির বৈধ কাগজপত্র নিজেদের নামে থাকার কথা বলেছে, অন্য পক্ষও জমিটির মালিকানা দাবি করেছে। ফলে জমির মালিকানা ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন।
থানায় অভিযোগ না নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। তাঁদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেও কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ যোগাযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন বলে জানান তাঁরা।
তবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, অভিযোগ গ্রহণ না করা এবং বিকাশে টাকা পাঠানোর সঙ্গে এসব ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চললেও, লেনদেনের প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।