ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ ও অস্থিরতার মধ্যে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির স্বাক্ষরযুক্ত বার্সেলোনার জার্সি ও অধিনায়কের বাহুবন্ধনী চুরির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুই মুখোশধারী ব্যক্তিকে স্মারকসামগ্রী দুটি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ ও ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘নোগোমানিয়া’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকার কাছে একটি দোকান থেকে স্মারকসামগ্রী দুটি চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ। পিএসজি ও বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে গত পরশু রাতে এ ঘটনা ঘটে। মেসি ক্যারিয়ারে দুই ক্লাবের হয়েই খেলেছেন।
ফুটবল স্মারকসামগ্রীর বাজারে মেসির স্বাক্ষরযুক্ত ও ব্যবহৃত জার্সির চাহিদা ব্যাপক। তবে চুরি হওয়া জার্সি ও বাহুবন্ধনীর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে সেগুলো কোন ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছিল, মেসির পারফরম্যান্স, স্মারকসামগ্রীর অবস্থা এবং সংগ্রাহকদের আগ্রহের ওপর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মারকসামগ্রী দুটি উদ্ধার হওয়ার আগেই কালোবাজারে বিক্রি করা হলে সেগুলোর দাম কয়েক হাজার ডলার হতে পারে।
মেসির স্মারক জার্সির উচ্চমূল্যের নজিরও রয়েছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের হয়ে তাঁর পরা ছয়টি জার্সি ২০২৩ সালে নিলামে বিক্রি হয়েছিল। প্রতিটি জার্সির দাম ছিল ১০ লাখ ডলারের বেশি।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট এবং সরকারি পরিষেবার অবনতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষোভ থেকে গত ১৭ অক্টোবর প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও জনসেবার মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মেসির স্মারকসামগ্রী চুরির ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।