
চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচটিতে শুরু থেকে দুই দলের মধ্যে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই। বল দখলে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে কাতালানরা। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে জাভি এসপার্টের গোলে সমতায় ফেরে দলটি। এরপর দুই দলই আক্রমণ বাড়ালে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও বার্সেলোনাকে চাপে রাখে পিএসজি। তবে ৭৯ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে আবারও সমতা ফিরে পায় কাতালানরা। তাঁর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
কিন্তু সমতা ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। মাত্র দুই মিনিট পর, ৮১ মিনিটে ভিতিনিয়ার গোলে ফের এগিয়ে যায় পিএসজি। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের গোল বার্সার ফেরার পথ আরও কঠিন করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্যারিসের দলটি।
ম্যাচ শেষে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তাঁর মতে, দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল উপভোগ্য, তবে বলের দখল ধরে রাখা এবং সহজ পাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর দলের বেশ কিছু ভুল হয়েছে।
ফ্লিক বলেন, ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ম্যাচে ইতিবাচক দিকও দেখেছেন তিনি। কোন জায়গাগুলোতে উন্নতি প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সেসব নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন বার্সা কোচ।
এই হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে দলটির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে চারটির বেশি গোল করার সামর্থ্য দেখালেও পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের ভুল ও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।
বার্সেলোনার জন্য এই হার যেমন জয়ের ধারায় ছেদ, তেমনি মৌসুমের বাকি অংশে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে ঘুরে দাঁড়ানোরও পরীক্ষা।