
চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও পিএসজি। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল ও কৌশলগত লড়াই।
হান্সি ফ্লিকের অধীনে চলতি মৌসুমে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ লা লিগায় একের পর এক জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগেও নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জিতেছে কাতালান ক্লাবটি। সর্বশেষ লিগ ম্যাচে রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে দলটি। ওই ম্যাচে আক্রমণভাগের গতিময় ফুটবল এবং লামিনে ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে আলোচিত।
বার্সেলোনার শক্তির জায়গা শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, বরং দলীয় সমন্বয় ও আক্রমণে একাধিক খেলোয়াড়ের অবদান। দ্রুত বলের দখল নেওয়া, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা ফ্লিকের দলকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। তবে পিএসজির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বড় পরীক্ষা।
অন্যদিকে, নিজেদের মাঠে বার্সেলোনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পিএসজিও। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। সর্বশেষ ইউরোপীয় ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদের মাঠে ৪-২ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। ফলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকার কথা নয় স্বাগতিকদের।
পিএসজির জন্য বড় সুবিধা নিজেদের মাঠে খেলা। সমর্থকদের উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই বার্সেলোনার ওপর চাপ তৈরি করতে চাইবে তারা। অন্যদিকে, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা থাকবে বার্সেলোনার। দুই দলের কৌশলগত এই দ্বৈরথ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বার্সেলোনার জন্য উদ্বেগের বিষয় অবশ্য রক্ষণভাগের চোট সমস্যা। জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়ার চোটের কারণে রক্ষণ সাজাতে বিকল্প নিয়ে ভাবতে হচ্ছে কোচ ফ্লিককে। আক্রমণভাগে রাফিনিয়াকে শুরুর একাদশে ফেরানোর সম্ভাবনা থাকলেও ম্যাচের আগে চূড়ান্ত দল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দুই দলই চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে মাঠে নামছে। ফলে এই ম্যাচে জয় শুধু পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থাকার সুযোগই দেবে না, প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেওয়ারও মঞ্চ হয়ে উঠবে।
একদিকে বার্সেলোনার ছন্দময় আক্রমণ ও টানা জয়ের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে পিএসজির ঘরের মাঠের সুবিধা এবং বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণের তাগিদ। সব মিলিয়ে পার্ক দে প্রিন্সেসে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষা। এখন দেখার বিষয়, বার্সেলোনার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে, নাকি পিএসজির মাঠে থামে কাতালানদের দুরন্ত ছুটে চলা।