
গত মাসে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে নেশন্স লিগের অভিযানের সময় কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে খেলার সুযোগ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকার পর কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগ তুলে দল ছাড়েন তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। তাঁর দাবি, নরওয়ের বিপক্ষে তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কোচ। সেই অনুযায়ী মাঠে নামার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। বিরতির পর ওয়ার্মআপ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে খেলানো হয়নি।
রোনালদো বলেন, কোচ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, নরওয়ের বিপক্ষে ৩০ মিনিট খেলার জন্য তিনি প্রস্তুত কি না। সম্মতি দেওয়ার পর তাঁকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ায় কোচের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে খেলা অব্যাহত রাখার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন রোনালদো। একই সঙ্গে ফুটবল ফেডারেশন তাঁর বিরুদ্ধে যে শাস্তিই আরোপ করুক, তা মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।
সোমবার রোনালদোর শাস্তির ঘোষণা দেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। এর আগে তাঁকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও আগামী নভেম্বরে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর অংশগ্রহণে বাধা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কোচের সঙ্গে বিরোধের পরও রোনালদোর প্রতি আস্থা জানিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা। তাঁর বিশ্বাস, জেসুসের সঙ্গে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
রোনালদোকে পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রোয়েনসা বলেন, ‘রোনালদো পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি আমাদের অধিনায়ক এবং দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিনের অবদান ও নেতৃত্বের কারণে রোনালদো পর্তুগালের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। ফলে কোচের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধ এবং ফেডারেশনের শাস্তির পর দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।