
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ তৈরিতে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ১৬ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকেরা। পাল্টা আক্রমণে লাইপজিগও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ২৮ মিনিটে তাদের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রচেষ্টা রুখে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক মার্টেন ভ্যানডাভোর্ট। দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধের শেষদিকে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নেয় রিয়াল।
৪১ মিনিটে লাইপজিগের ক্রিস্টোফার এনকুনকুর একক প্রচেষ্টা আটকে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন কোর্তোয়া। এর কিছুক্ষণ পরই গোলের দেখা পায় রিয়াল। ফেদে ভালভার্দের কাটব্যাক থেকে আর্দা গুলারের নেওয়া শট ঠেকানোর চেষ্টা করেন ভ্যানডাভোর্ট। তবে বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় সুযোগ কাজে লাগান বার্নার্দো সিলভা। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রিয়াল। একের পর এক আক্রমণে লাইপজিগের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখার পর দ্বিতীয় গোলটি আসে গুলারের পা থেকে। জুড বেলিংহ্যামের ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপের হেড গোলমুখে পৌঁছালে কাছ থেকে বল জালে পাঠান তুর্কি মিডফিল্ডার। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকলেও রিয়ালের আক্রমণ থামেনি। ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বদলি হিসেবে নামা ইয়ান দিয়োমান্দের পাস পেয়ে ডি-বক্সের সামনে থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তিন ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১২-তে নিয়ে যান ফরাসি তারকা।
শেষ কয়েক মিনিটে দুই দল আরও দুটি গোল করে। ৮৫ মিনিটে টিডিয়াম গোমিসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করে লাইপজিগ। তবে দুই মিনিট পরই রিয়ালের হয়ে নিজের গোলটি আদায় করে নেন দিয়োমান্দে। ডি-বক্সের ভেতর থেকে তাঁর জোরালো ভলি শটে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ। রিয়ালের হয়ে বার্নার্দো সিলভা, আর্দা গুলার, কিলিয়ান এমবাপে ও ইয়ান দিয়োমান্দে একটি করে গোল করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের অবস্থান তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে দলটি। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে পিএসজি; এরপর রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুল। টানা জয়ের পাশাপাশি শেষ চার ম্যাচেও অপরাজিত নয়, বরং জয় তুলে নেওয়া রিয়াল এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জের দিকে তাকিয়ে।
সামনে রিয়ালের জন্য অপেক্ষা করছে মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই—লা লিগার এল ক্লাসিকো। আগামী রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে লাইপজিগের বিপক্ষে এই বড় জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। লিগে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে আক্রমণভাগের এমন কার্যকারিতা স্বস্তি দেবে কোচ ও সমর্থকদের। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই জয়ের ছন্দ ঘরোয়া লিগের বড় ম্যাচেও ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।