
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য বড় সংগ্রহ গড়ার প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যাট হাতে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দল। শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৬০ রানে। জবাবে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। তাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে শুক্রবার শিরোপার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানরা।
বুধবার শারজায় ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল কঠিন। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আগে ব্যাট করে বড় ব্যবধানে জেতার পাশাপাশি আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো। কিন্তু ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ধস নামায় সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো পুঁজি গড়তেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে ইনিংসের প্রথম ভাগেই। তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত—তিনজনই অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেট হারান। তানজিদ করেন ১ রান, সৌম্য ফেরেন শূন্য হাতে, আর শান্তর সংগ্রহ ১৫। এর মধ্যে পাওয়ার প্লের সময়ই অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে হারিয়ে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারে দলীয় সংগ্রহ ২৮ রান থাকতেই চার উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ১৪৭ বলে ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি আনে। ৮২ বল খেলে ৪১ রান করে সাইফ বিদায় নেওয়ার পর অবশ্য সেই প্রতিরোধও বেশিক্ষণ টেকেনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানেই থামে দলের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৯৬ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসটিতে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে ব্যাটারদের বিদায়ে তাঁর লড়াই বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়তে পারেনি। আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। ৩১ রান খরচায় চারটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ক্ষতি করেন এই লেগ স্পিনার।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানও শুরুতে দুটি উইকেট হারায়। দলীয় ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৬ এবং ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল ৪ রান করে ফিরে যান। পরে ইব্রাহিম জাদরান ৩৪ রান করে আউট হলে ৯৫ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানরা। তবে এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শহীদি। চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তাঁরা।
আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ ৯০ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৬৭ রান করেন। হাসমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন। তবে স্বল্প লক্ষ্য থাকায় আফগান ব্যাটারদের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারেননি বোলাররা।
টানা দুই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলাদেশের দল নির্বাচন ও প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় দলকে। ব্যাটারদের ভুল শট নির্বাচন এবং অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে খেলার প্রবণতা আবারও আলোচনায় এসেছে।
জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দল নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, জাতীয় দল নির্বাচনে মেধা ও পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। আবেগ, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারা এবং শুরুতেই উইকেট হারানোর পুরোনো সমস্যাই বাংলাদেশের বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে তিন উইকেটের বিনিময়ে সহজ জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। শুক্রবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।