
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে নাজিরপুর উপজেলার মধুরাবাদ খালে রিনা বেপারীর মরদেহ ভেসে ওঠে। এদিকে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এবং নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন। তাঁদের উদ্যোগে পরিবারটিকে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে ভরতকাঠি এলাকার বেপারী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ। এর আগে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও শোকাহত পরিবার পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে স্ত্রী রিনা বেপারী ও মেয়ে অর্পিতাকে নিয়ে শ্রীরামকাঠিতে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন শংকর বেপারী। রাতে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ভরতকাঠি খেয়াঘাটগামী একটি ট্রলারে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, ট্রলারটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল ছিল।
যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়। এ সময় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেন। শংকর বেপারী কোনোমতে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রিনা বেপারী। অবশেষে তিন দিন পর বুধবার সকালে নাজিরপুরের মধুরাবাদ খালে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
একসঙ্গে দুর্গাপূজা দেখতে যাওয়া মা-মেয়ের আর জীবিত বাড়ি ফেরা হলো না। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে শংকর বেপারীর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আনন্দের একটি সন্ধ্যা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কান্না আর আহাজারিতে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ভরতকাঠি-শ্রীরামকাঠি খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, অসহায় পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামমাত্র ইজারা নেওয়ার পর স্থানীয় সাইদুল ইসলাম নামের এক যুবক ঘাটটি পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দিনে ঘাটে তাঁর নিজস্ব দুটি খেয়াসহ আরও সাত থেকে আটটি খেয়া চলাচল করে। তবে রাত ৮টার পর স্থানীয় মিরাজ নামের এক যুবকের মাধ্যমে মাত্র একটি খেয়া পরিচালনা করা হয়। দুর্গাপূজার মতো ব্যস্ত সময়েও রাতে অতিরিক্ত খেয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল বহন এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম খেয়া চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। ঘাটের ইজারা ও পরিচালনব্যবস্থা তদন্ত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খেয়াঘাটের পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতে সাধারণত যাত্রী থাকে না, তাই একটি খেয়া চলাচল করে। তবে দুর্গাপূজার সময় যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় নিয়ে কেন অতিরিক্ত খেয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনায় শোকাহত পরিবারটির খোঁজখবর রাখছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর। প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব উদ্যোগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির পাশে থাকবে।