
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জয়পুরহাটের কালাই পৌর এলাকায় নিজ বাসভবনে দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষ বরাদ্দের অর্থ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ১৪৬ জন দুস্থ ব্যক্তির প্রত্যেককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা বিশেষ তহবিল থেকেও দুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও উপকারভোগীদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা কাজে আসবে।
তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি সমাজের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সহায়তা একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ। এর মাধ্যমে মানুষ যেন অন্তত তাঁদের জরুরি কিছু প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
সরকারের বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, দুস্থ ভাতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাতা, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচি, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সাময়িক আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং মানুষের আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়, সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে এবং ন্যূনতম চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে, সে জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ বরাদ্দের অর্থ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। কালাই পৌরসভার থুকসারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের মতো সাধারণ আয়ের মানুষের সংসার চালাতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে তেমন টাকা থাকে না। এই অনুদান জরুরি কিছু খরচ মেটাতে কাজে লাগবে। পরিমাণে কম হলেও প্রয়োজনের সময়ে এ সহায়তা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্রাই ইউনিয়নের ইন্দাহার গ্রামের জাকিয়া সুলতানা বলেন, সংসারের নানা প্রয়োজন থাকলেও সীমিত আয়ের কারণে সবকিছু একসঙ্গে সামাল দেওয়া কঠিন। এমন সময়ে এই সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দেবে। অসহায় মানুষের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।
উদয়পুর ইউনিয়নের বাশিলাপাড়া গ্রামের জাকিয়া বেগম বলেন, তাঁদের মতো অসচ্ছল পরিবারের জন্য সামান্য সহায়তাও অনেক মূল্যবান। সংসারের জরুরি প্রয়োজনে এই অর্থ কাজে লাগবে। ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম, ছেলে তৌফিক হাসান, মেয়ে নাহিদ নওশিন বারী, পুত্রবধূ লাইলাতুল বরাত নিঝুম এবং জামাতা মোহাম্মাদ হারুন-অর-রশিদ খান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টুকু চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।