সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাসের আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সবাই একই এলাকার বাসিন্দা ও বাংলাদেশের নাগরিক। পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পূজার সার্বিক আয়োজন সম্পর্কে অবগত হন।
পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরলে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘আজ আপনাদের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা পাশে ছিলেন বলেই আমি আজ এই অবস্থানে এসেছি। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সবার কল্যাণে কাজ করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে চলতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শন করা পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে মানিকগঞ্জের নবগ্রাম কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ, লোকনাথ কুঠির শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, উকিয়ারা দয়াল রাজবংশীর বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈট্টা অগ্রগামী তরুণ সংঘ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মাঝিপাড়া পলাশ স্মৃতি দুর্গা মন্দির, দশ আনী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মিতরা শ্রী শ্রী হরিকালী মন্দির, এগারোশ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির, বাজার লক্ষ্মীমণ্ডপ, পূর্ব দাশড়া কালীখোলা দুর্গা মন্দির ও শিববাড়ী দুর্গা মন্দির।
খাদ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা মন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন।