চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা থেকে ৪ হাজার ২৫৬ লিটার ডিজেল পাচারের চেষ্টার অভিযোগে বন্দরের দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মীরা হলেন বন্দরের ভাণ্ডাররক্ষক মাহমুদুর রহমান মান্না ও সিনিয়র স্টোরম্যান সঞ্জয় কুমার দে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী মীর্জা রাকিবুল ইসলাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিজেলবাহী গাড়ি থেকে নির্ধারিত জ্বালানি ট্যাংকে পুরো ডিজেল না ঢেলে ৪ হাজার ২৫৬ লিটার বাইরে পাচারের চেষ্টা করা হয়। এ কাজে গাড়িটিকে বন্দর থেকে বের হতে সহায়তা করেন অভিযুক্ত দুই কর্মী।
পরে নৌবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বন্দরের জেটি এলাকায় ১ নম্বর গেটের কাছে কেমিক্যাল শেডের বিপরীত পাশে গাড়িটি আটক করেন।
প্রধান প্রকৌশলী মীর্জা রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সঞ্জয় কুমার দে বোয়ালখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর যমুনা অয়েল পিএলসি থেকে বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগের জোনাল ওয়ার্কশপ ডি-এর জন্য ১৮ হাজার লিটার ডিজেল নেওয়া হয়েছিল। ওই ডিজেল সরবরাহের ঘটনায় কীভাবে ৪ হাজার ২৫৬ লিটার জ্বালানি বাইরে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।