চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের একটি বহুতল ভবনের ১২ তলার বারান্দার গ্রিলে মাথা আটকে ঝুলছিল তিন বছর বয়সী এক শিশু। নিচে গভীর শূন্যতা, আর সামান্য এদিক-সেদিক হলেই ঘটে যেতে পারত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কয়েকজন প্রতিবেশী ও নিরাপত্তাকর্মী। তাঁদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধি ও সাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি।
গত ১৭ অক্টোবর সকাল পৌনে আটটার দিকে চীনের ঝাংপিং শহরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের বরাতে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা কর্মস্থলে ছিলেন। মা তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে সামান্য কেনাকাটার জন্য বাইরে যান। এরই মধ্যে ঘুম থেকে উঠে শিশুটি জানালার কাছে চলে যায়। একপর্যায়ে সেফটি গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার মাথা আটকে যায়। শরীরের বাকি অংশ বাইরে ঝুলে পড়ায় তৈরি হয় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি।
শিশুটিকে এভাবে ঝুলতে দেখে এক প্রতিবেশী দ্রুত আবাসিক এলাকার গ্রুপ চ্যাটে ছবি দিয়ে সাহায্যের আবেদন জানান। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিরাপত্তাকর্মী ও আবাসন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিচের তলার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন দুই নিরাপত্তাকর্মী। এরপর জানালা দিয়ে শরীরের বড় একটি অংশ বাইরে বের করে তাঁরা শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একটি সাধারণ প্লাস্টিকের টুল শিশুটির পায়ের নিচে ধরে রাখা হয়, যাতে তার শরীরের পুরো ভার গ্রিলের ওপর না পড়ে এবং সে কিছুটা অবলম্বন পায়।
পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবু উদ্ধারকারী দল পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা টুলটি ধরে রাখেন। তাঁদের এই প্রচেষ্টা শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য মূল্যবান সময় এনে দেয়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সতর্কতার সঙ্গে গ্রিল কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবেশী ও নিরাপত্তাকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করছেন অনেকে। তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং বিপদের মুহূর্তে এগিয়ে আসার মানসিকতাই শিশুটিকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একটি সাধারণ প্লাস্টিকের টুল আর কয়েকজন মানুষের উপস্থিত বুদ্ধি—মুহূর্তের মধ্যে হয়ে উঠেছিল একটি শিশুর জীবন রক্ষার অবলম্বন। ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, বিপদের সময় দ্রুত এগিয়ে আসা এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এনডিটিভি