বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম পুলিশ, ফ্রান্সে কারফিউয়ের পর স্বস্তির রাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সহিংসতা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের পর ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করায় সোমবার রাত তুলনামূলক শান্ত কেটেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি

2026-10-20T14:49:35+00:00
2026-10-20T14:49:35+00:00
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
 
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম পুলিশ, ফ্রান্সে কারফিউয়ের পর স্বস্তির রাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম 
শহরগুলোতে তরুণদের চলাচল ও গণজমায়েতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
সহিংসতা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের পর ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করায় সোমবার রাত তুলনামূলক শান্ত কেটেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিক্ষোভের সময় কয়েকটি বড় শহরে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া বিধিনিষেধ প্রয়োজন অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতেও বহাল থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, সোমবার রাতে কারফিউয়ের পর পরিস্থিতি শান্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখা হবে কি না, তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণকারী গ্রেনেডে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, শনিবার কয়েকটি বড় শহরে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতা অস্বীকার করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সহিংসতা ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করছে। নুনেজ পদত্যাগপত্র জমা দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা গ্রহণ করেননি। সংকট মোকাবিলায় তাঁকে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল। শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক চাপ এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির মতো বিষয়।

ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বৃহত্তর সামাজিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। এতে শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মী এবং সাধারণ মানুষও অংশ নেন। গত শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাব।

সহিংসতা ঠেকাতে প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক ও লেস হ্যালস শপিং এলাকা ছাড়াও মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলের মতো শহরে চলাচল ও জনসমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় কারফিউ জারি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানিয়েছেন, মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

কারফিউয়ের কারণে রাতের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিক্ষোভের মূল কারণগুলো এখনো অমীমাংসিত। ফলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকেরা।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: