পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া চন্দনবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘এ এন্ড এ অটো ব্রিকস’ ইটভাটায় কয়লার সঙ্গে কাঠ ও কাঠের গুঁড়া পুড়িয়ে ইট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই ভাটাটিতে এসব জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নির্গত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় কাঠ ও কাঠের গুঁড়া কিছুটা আড়ালে রাখা হলেও রাতের বেলায় সেগুলো চুল্লিতে পোড়ানো হয়। সরেজমিনে ভাটার এলাকায় বিপুল পরিমাণ কাঠের খড়ি ও কাঠের গুঁড়া মজুত থাকতে দেখা গেছে। এসব জ্বালানি ব্যবহারের ফলে আশপাশের ফসলি জমি, ফলদ গাছপালা ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সাখাওয়াত হোসেন কাঠ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কয়লার সংকট থাকায় সব সময় নয়, মাঝে মাঝে কাঠের খড়ি ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণা বায়ুদূষণ বাড়ায় এবং মানুষের শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এ ধরনের দূষণের কারণে তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম বলেন, ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বন ধ্বংস করে কাঠ সংগ্রহ এবং ইটভাটায় তা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন।
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, সাকোয়ার এ এন্ড এ অটো ব্রিকসে কাঠের গুঁড়া ও কাঠের খড়ি পোড়ানোর বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল গফুর বলেন, ইটভাটায় কাঠের গুঁড়া কিংবা খড়ি পোড়ানোর অনুমতি নেই। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও, ভাটাটিতে জ্বালানি ব্যবহারের ধরন এবং পরিবেশদূষণের মাত্রা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল জানা যায়নি।