হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া শিবপাশা সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও বেরিয়ে পড়েছে নিচের মাটি। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। এ অবস্থায় সড়কটির দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সহজে বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টমটম, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে সড়কটির সংস্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে আবার ভাঙন দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলতে থাকলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। শুধু গর্ত ভরাট করে সাময়িক সমাধান নয়, বরং টেকসই ও মানসম্মত সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া শিবপাশা সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়। তবে কয়েক বছর না যেতেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক্কলন বা এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সড়কটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে।