দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের জামালপুর মৌজায় নবাবগঞ্জ-ভাদুরিয়া পাকা সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একদল ডাকাত সড়কের পাশের গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে যানবাহনের গতিরোধ করে। পরে একাধিক যানবাহনে দলবদ্ধভাবে ডাকাতি করে তারা।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৯৫ ধারায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১০, তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬।
মামলা দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাজাকালাই এলাকার মো. শাকিল সরকার (২৬) ও মো. রুহুল আমিন (৩৫); রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হাসানপুর এলাকার মো. রাশেদ মিয়া ওরফে রাশেদুল (৩০), মো. রবিউল প্রধান ওরফে রুবেল (৩৫), মো. সাজু মিয়া (৫৩) ও মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২); গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাসিরাবাদ কলোনির মো. শাহিন মিয়া (৩০) এবং রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হলদিবাড়ী প্রধানপাড়ার মো. মিরাজ মিয়া (২৬)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে এইচপি ব্র্যান্ডের দুটি ল্যাপটপ, ইনফিনিক্স, অপ্পো, ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের পাঁচটি স্মার্টফোন এবং ম্যাক্সটেল ব্র্যান্ডের একটি বাটন ফোন।
এ ছাড়া সড়ক অবরোধের জন্য গাছ কাটতে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ডাকাত চক্রের অন্য কোনো সদস্য জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।