
সাধারণ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপর বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিচ্ছেন তিনি। বগুড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সংযোগ সড়ক, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও প্রধান ফটক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। নতুন অবকাঠামো সংযোজন ও আধুনিকায়নের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় সংশোধিত পরিকল্পনায় এর ব্যয় প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধান ফটক ও বাস গ্যারেজ, ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাইট ডেভেলপমেন্ট এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
সরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কলেজটিতে ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ তলাবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
শহরের মালতিনগরে অবস্থিত বগুড়া মহিলা কলেজে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কলেজটির আরেকটি একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বগুড়ার উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শাহ আলম।
এদিকে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ছয়তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘সরকারি কলেজসমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। এ কলেজে হিসাববিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, দর্শন এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ পর্বের কোর্স চালুর লক্ষ্যে অধিভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে ৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়তলাবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। উপশহরের বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছয়তলাবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরিচালন বাজেটের রাজস্ব খাতের অনাবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ টাকা।
নির্বাচিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জিলা স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নকাজও চলছে। ছয়তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া গোকুল তমিরুননেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একতলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
সরকারি মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার সরকারি মুস্তাফাবিয়া মাদ্রাসায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, পরিচালন বাজেটের রাজস্ব খাতের আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে চারতলা ভিতবিশিষ্ট ১৫টি একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উন্নয়নকাজের মান ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা সরেজমিনে প্রকল্পগুলো তদারকি করছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সাধারণ শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজকে নান্দনিক ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ে শিক্ষার সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বিএনপি সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সহজ করতে বিনা সুদে ও বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।