৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তি, ৪০ হাজারের হাতে ল্যাপটপ—কারা পাবেন এই সুবিধা?

ভোরের ডাক ডেস্ক

শিক্ষা

নারী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বড় উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনার

2026-10-17T18:05:58+00:00
2026-10-17T18:05:58+00:00
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তি, ৪০ হাজারের হাতে ল্যাপটপ—কারা পাবেন এই সুবিধা?
ভোরের ডাক ডেস্ক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নারী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বড় উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় দেশের ৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়ার জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের অবসরকালীন পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

নারী শিক্ষার প্রসার এবং আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে ৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

তবে কারা এই বৃত্তি পাবেন, আবেদনের যোগ্যতা কী হবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কখন থেকে অর্থ বিতরণ শুরু হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ল্যাপটপ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্বাচনের বিস্তারিত শর্ত এবং বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেছেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত শিখনফল ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে নিয়মিত মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক পরীক্ষার পাশাপাশি তিন বা ছয় মাস অন্তর শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে আরও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে। এটি আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণকে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ পরিশোধে বিদ্যমান সংকট কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কার্যবিবরণীতে এ খাতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গড়ে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার বিষয়টিও এতে রয়েছে।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম শুরুর তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করা নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করা প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদী ও মো. মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক জটিলতা ও ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে শিক্ষকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাবও উঠে আসে। কমিটির সদস্যদের মতে, সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো যেন বারবার পরিবর্তিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক সূচকে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট ও বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চালু করা জরুরি।

ছাত্রীদের বৃত্তি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ, শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং মূল্যায়নব্যবস্থার উন্নয়ন—সব মিলিয়ে শিক্ষা খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, চূড়ান্ত বরাদ্দ ও সুবিধাভোগী নির্বাচনের বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।


Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: