বহিরাগত খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) খেলোয়াড়দের মারধর ও শিক্ষকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে আয়োজক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর খেলা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে গেছেন যবিপ্রবির খেলোয়াড়েরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেলার একপর্যায়ে যবিপ্রবির গোলরক্ষক অসুস্থ হয়ে মাঠে পড়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক খেলোয়াড় যবিপ্রবির খেলোয়াড় রুমির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুমি অভিযোগ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলতে আসা কয়েকজন খেলোয়াড়ের শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই অভিযোগের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রুমি বলেন, গোলরক্ষক মাঠে পড়ে যাওয়ার পর তাঁরা বিষয়টি রেফারিকে জানাতে গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক খেলোয়াড় তাঁর গলা চেপে ধরেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাঠের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুমি। তাঁর অভিযোগ, যবিপ্রবি দলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কয়েকজন লাঠি ও গাছের ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এমন পরিস্থিতিতে মাঠে ফিরে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
যবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিনও ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে উপস্থিত থাকা এই শিক্ষক বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিচয় নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও আপত্তি জানিয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল একই কারণে মাঠ ছেড়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ড. ফারহানা ইয়াসমিনের অভিযোগ, ম্যাচের শুরু থেকেই যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হচ্ছিল। পরে এক খেলোয়াড়ের কলার চেপে ধরার ঘটনা ঘটে। এরপর মাঠের বাইরে থাকা কিছু সমর্থক লাঠিসোঁটা ও গাছের ডাল নিয়ে মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার পক্ষে তাঁদের কাছে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যবিপ্রবি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খেলা স্থগিত ছিল এবং যবিপ্রবির দল মাঠ ছেড়ে চলে যায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা যাবে।