
সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নয়জন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আরও পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা।
শনাক্ত হওয়া নিহত ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা গ্রামের আরব আলীর ছেলে সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার আত্মীয় শালাল মোল্লা (৪৫), কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা আরপি পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের যাত্রীরা হতাহত হন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের কারণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।