
নোটিশপ্রাপ্ত তিন শিক্ষক হলেন—উপজেলার হাজী করীম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজীব কুমার দেব, চরগাঁও (সংযুক্ত ভরপূর্ণী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ মনিরা আক্তার এবং তেঘরিয়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা আক্তার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দীন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণয় কান্তি মহালদারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। নোটিশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(গ) অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একই বিধিমালার বিধি ৭(৯) অনুযায়ী কেন তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে অথবা বিধিতে উল্লিখিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দীন বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিক্ষার মান গতিশীল রাখার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদগুলো শূন্য হলে তা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে তেঘরিয়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা আক্তার ঋণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন।
বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলী আহমেদ বলেন, ওই শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানান তিনি।