
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের ওই রিসোর্টে থাকার জন্য কক্ষ বুক করেছিলেন নাহিদুর। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের কারও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন।
নাহিদুরের বড় ভাই জানান, শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছোট ভাই তাঁকে জানিয়েছিলেন। শনিবার রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। পরে ভাই ও তাঁর পরিবারের খোঁজে তিনি নিজেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
জাহিদুর বলেন, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুক করেছিলেন। ১১ অক্টোবর ওই বুকিং করা হয়। রোববার দুপুর ১টার দিকে তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই। মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সঙ্গে গ্রামে থাকেন। বাবা এখনো নাহিদুরের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানেন না। তাঁরা বেঁচে আছেন কি না, নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন—কিছুই নিশ্চিত হতে পারছি না। আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’
স্বজনেরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। চাকরির কারণে ঢাকায় থাকলেও ছুটি ও বিভিন্ন উৎসবে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যেতেন।
নাহিদুরের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ভাই। এ বিষয়ে তিনি রিসোর্টে কক্ষ বুকিংয়ের বিলের একটি কপিও দেখিয়েছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান শনিবার রাতে জানান, নাহিদুর রহমান নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, আগুনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও কয়েকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্বজনদের আশঙ্কা, এখনো শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নাহিদুর, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকতে পারেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মনিরামপুরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি প্রকাশ করে সন্ধান পাওয়ার জন্য সহযোগিতা কামনা করছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে।
প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্টের ভেতর থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।
এখন স্বজনদের অপেক্ষা একটাই—নাহিদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী আফসানা এবং দুই শিশুকন্যা জীবিত আছেন কি না, নাকি উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁদের পরিচয় মিলবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলের দিকেই তাকিয়ে আছে পরিবার।