
হেমন্ত মানেই প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে বদলের আবহ। দিনের তাপমাত্রায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করে, রাত ও ভোরে অনুভূত হয় শীতল বাতাস। কোথাও কোথাও ভোরের ঘাসে জমে শিশির, আবার কুয়াশার হালকা পরশও জানান দেয় শীত খুব বেশি দূরে নেই।
বর্ষার পানি তখনও অনেক নদী, খাল ও বিলে থেকে যায়। সবুজে ঢাকা প্রকৃতির সঙ্গে জলাভূমিতে ফুটে থাকা শাপলা-পদ্ম হেমন্তের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। গ্রামবাংলার মাঠে এ সময় শুরু হয় নতুন ফসলের প্রস্তুতি। কৃষকের ব্যস্ততাতেও ফুটে ওঠে ঋতু পরিবর্তনের ছাপ।
বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও হেমন্তের উপস্থিতি আলাদা। শান্ত, নীরব ও কোমল প্রকৃতির এই সময় কবি-সাহিত্যিকদের কল্পনায় বারবার ধরা দিয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে হেমন্তের চেনা রূপেও এসেছে পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণে ঋতুগুলোর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনেক ক্ষেত্রেই আগের মতো স্পষ্ট থাকছে না। কখনো গরম দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আবার কখনো শীতের আগমনও অনিয়মিত হয়ে পড়ছে।
ফলে পঞ্জিকার হিসাবে হেমন্ত এলেও প্রকৃতিতে তার স্বাভাবিক আবহ কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করছে পরিবর্তিত জলবায়ু ও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর। তবু শিশিরভেজা ভোর, নরম রোদ আর শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হেমন্ত প্রতিবছরই বাংলার প্রকৃতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।