মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জেলার পাঁচ উপজেলায় এবার ১৬৪টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দেবীর আরাধনা, ঢাকের শব্দ, ধূপের সুবাস আর চণ্ডীপাঠে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিমা ও বর্ণিল সাজে সেজেছে মণ্ডপগুলো। প্রথম দিন থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ১৬৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ৬১টি, শিবগঞ্জে ৫১টি, গোমস্তাপুরে ৩২টি, নাচোলে ১৭টি এবং ভোলাহাটে তিনটি মণ্ডপ রয়েছে।
ধর্মীয় শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন দেবী দুর্গা এবং নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন স্বর্গলোকে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সপ্তমী তিথি থাকায় পূজার মূল শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা চলবে পরবর্তী দিনগুলোতেও।
উৎসবের সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার ছিল মহাষষ্ঠী, শনিবার সপ্তমী, রোববার মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমী। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকেরা। মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয়ের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গোৎসব বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা।