চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। এবার নগরী ও জেলার ১৫ উপজেলায় মোট ২ হাজার ৫৫২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজার নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানি ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে এবার ২৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। নগরীর বাইরে জেলার ১৫ উপজেলায় মণ্ডপের সংখ্যা ২ হাজার ২৭৪টি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বলেন, প্রতিটি মণ্ডপ কিংবা কাছাকাছি অবস্থিত একাধিক মণ্ডপ ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বড় মণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ পাঁচজন আনসার সদস্যের পাশাপাশি দুই থেকে তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও পুলিশের মোবাইল টিম মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালন করবে। টহলে থাকবে র্যাবও।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশের দুই হাজার পোশাকধারী সদস্য মোতায়েন থাকছেন। গোয়েন্দাসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আরও প্রায় এক হাজার সদস্যের পাশাপাশি র্যাব ও আনসারের ছয় হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
এবার পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে উৎসব শেষ হবে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে নগর পুলিশ।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত বোয়ালখালী উপজেলার চণ্ডীতীর্থ মেধস মুনির আশ্রম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জেলায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। বড় মণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে অন্তত ১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, শুক্রবার থেকে মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। গুজব, অপপ্রচার ও নাশকতার চেষ্টা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সূর্যাস্তের আগেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্যও বলা হয়েছে।