ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, সবাই সচেতন হলে এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গতকাল সকালে খুলনা মহানগরীর ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গু সংক্রমণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সংক্রমণ কমানোর লক্ষ্যে ‘খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-১ ও ২’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যা সমাধান ও চাহিদা অনুযায়ী কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি সংস্থাটির সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
‘মা সুস্থ থাকলে পরিবার সুস্থ থাকবে’ উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু মায়েদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সন্তানদেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে।
কর্মসূচিতে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নিবন্ধিত ২৯১টি এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪৫টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মশারি বিতরণ করা হয়।
এ সময় কেসিসি পরিচালিত নয়াবাটী হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক শেখ জাহিদুজ্জামান, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম আবু সালেক, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, প্রোগ্রাম অফিসার এলিনা বৈদ্য ও রোজালিন মিতুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা নগরীর শেরে বাংলা রোডে নগর স্বাস্থ্য ভবনে এ সভার আয়োজন করে খুলনা সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে ইউনিসেফ। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিভিন্ন সময়ে মানুষ কোভিড-১৯, হাম-রুবেলা ও ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এসব বিপর্যয় থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় কেসিসি সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি টিকা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময়, মসজিদের খুতবায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে সময়মতো টিকা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে শিক্ষক ও ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সভায় জানানো হয়, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে এইচপিভি ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নুরুল ইসলাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ মুহীউদ্দিন মজুমদার। সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম।
এতে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও কওমি মাদরাসার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।