দাকোপে বাঁধ ভাঙনে গৃহহীন ৭ পরিবার, রক্ষা পেল ফসল-ঘের; দুই কোটি টাকা ক্ষতির দাবি

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

খুলনার দাকোপ উপজেলার বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে ঢাকি নদীর ভাঙনকবলিত স্থানে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে।

2026-10-16T16:22:36+00:00
2026-10-16T16:22:36+00:00
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
দাকোপে বাঁধ ভাঙনে গৃহহীন ৭ পরিবার, রক্ষা পেল ফসল-ঘের; দুই কোটি টাকা ক্ষতির দাবি
দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
খুলনার দাকোপ উপজেলার বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে ঢাকি নদীর ভাঙনকবলিত স্থানে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। এতে রক্ষা পেয়েছে হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ফসল, শত শত মাছের ঘের, পুকুর ও সবজির আবাদ। তবে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগে নির্মিত বাঁধ সুরক্ষার কাজ। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এম বিল্ডার্স। ভাঙনে বসতবাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতটি পরিবার।

সরেজমিনে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় দাকোপের তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে সম্প্রতি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রায় ৫০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ঢাকি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে নদীর ভাটার সময় পাউবোর আওতাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এম বিল্ডার্স ও মেসার্স জুয়েল ইলেকট্রোনিক্স বালুভর্তি জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করে। এতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে বাঁধের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। খবর পেয়ে পাউবোর খুলনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মধুসূদন পাল, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুজ্জামান ও নয়ন আলী ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের তত্ত্বাবধানে ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে বিকল্প বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হয়।

স্থানীয় দীপংকর বিশ্বাস, সরোয়ার সানা, যদুবর সরদার, নিরঞ্জন সরদার, কৃষ্ণপদ সরদার ও প্রশান্ত সরদারসহ অনেকে জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকার ফসলি জমি, মাছের ঘের, পুকুর ও সবজির আবাদ বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধটি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।

ভাঙনকবলিত স্থানটির পাশে প্রায় ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় এক বছর আগে কাজ শেষ করে মেসার্স এম এম বিল্ডার্স। পাউবো ও জাইকা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব স্থাপনের পাশাপাশি ব্লক ডাম্পিং এবং বাঁধের ঢালে ব্লক বসানো হয়েছিল।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, তাঁদের সম্পন্ন করা কাজের বাইরে, বাঁধের সামনের অংশে প্রথমে ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি ছবিসহ পাউবোকে জানানো হয়েছিল। পরে ভাঙন ঠেকাতে জুয়েল ইলেকট্রোনিক্সের মাধ্যমে বালুর বস্তা ফেলা এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু নদীর গভীরতা বৃদ্ধি ও প্রবল জোয়ার-ভাটার পানির চাপে শেষ পর্যন্ত বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়।

মেহেদী হাসানের দাবি, এ ঘটনায় তাঁদের আগে সম্পন্ন করা বাঁধ সুরক্ষার কাজেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দিন বলেন, সময়মতো পাউবোর আওতাধীন দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করায় বাঁধটি আটকানো সম্ভব হয়েছে। এ কাজে উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপির নেতারাও ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি জানান, নদীভাঙনে যদুবর সরদার, নিরঞ্জন সরদার, কৃষ্ণপদ সরদার, অজিত সরদার, লকেশ সরদার, গোপাল সরদার ও গোবিন্দ সরদারের বাড়িঘর ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে আসন্ন পূর্ণিমার জোয়ারে প্রবল পানির চাপে বিকল্প বাঁধটি টিকবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, বটবুনিয়ার ভাঙনকবলিত স্থানে আপাতত বাঁধ আটকানো হয়েছে। গত বছরও একই সময়ে ওই এলাকার বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ ঢাকি নদীতে বিলীন হয়েছিল। তখনও পাউবোর আওতাধীন দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করেছিল।

তিনি আরও বলেন, এবারও বাঁধের কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ওই বাঁধ সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও রয়েছে। এ কাজের জন্য নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

নদীভাঙন সাময়িকভাবে ঠেকানো গেলেও আসন্ন জোয়ারে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি স্থানীয়দের। তাই ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: