কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে মাদক কারবারিদের ধাওয়া করতে গিয়ে ভুলক্রমে ভারতে ঢুকে পড়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্য। পরে তাঁদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।
আটক দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, ঘটনার পর ১৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁদের ফেরত দেওয়া হয়নি। তবে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এএসআই ইমরান ও কনস্টেবল রোহিত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাতের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশা বাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযান চালান তাঁরা।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন মাদক কারবারিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের ধাওয়া করেন দুই পুলিশ সদস্য। একপর্যায়ে তাঁরা ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
ওসি ফারুক হোসেনের দাবি, এ সময় ভারতীয় মাদক কারবারিরা দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করে মারধর করার পর বিএসএফের হাতে তুলে দেয়।
কুমিল্লা বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যরা ভুলক্রমে ভারতে চলে যান। বিষয়টি জানার পর থেকেই বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। শিগগিরই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দুই পুলিশ সদস্য সুস্থ আছেন এবং তাঁদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি বলে জানা গেছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
সীমান্তের পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা ভূপ্রকৃতির কারণে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করছে বিজিবি।
তবে দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।