এবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তবে এ তিন

2026-10-15T17:37:57+00:00
2026-10-15T17:37:57+00:00
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রাজস্ব বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা
এবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা
গত মাসে রাজস্ব আদায় প্রায় ৭ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম 
এবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তবে এ তিন মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি গুরুত্বপূর্ণ এই শুল্ক স্টেশনটি।

চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। দৈনিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩২১ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমদানি পণ্যচালান খালাসের জন্য শুল্কায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে কাস্টম হাউস। যদিও ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের কার্যালয় বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ, মূল্য ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন সরাসরি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলে। প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী মাসগুলোতে আমদানি কার্যক্রমের গতি এবং উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানির ওপর রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বা শুল্কায়নসংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা করেন। এসব অনিয়ম কখনো ধরা পড়ে, আবার কখনো ধরা পড়ে না। অনেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রাজস্ব কমানোর জন্য বিভিন্নভাবে তদবির করেন। এসব কারণে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়। অর্থবছর শেষে দেখা যায়, কাস্টমস রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে গত সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৫০১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরের একই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ৯৪৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এর আগে জুলাই মাসে ১০ হাজার ৯৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগস্টে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৫৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ মাসে আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটি ২২ হাজার ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার ৩২ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ে কাস্টম হাউস ১৯ হাজার ৯০২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রাজস্ব আদায় মূলত আমদানি করা পণ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। সে হিসাবে গত তিন মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পেছনে সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে ৯৪ দশমিক ৭৩ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস হয়েছিল। বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খালাস হয়েছে ৯০ দশমিক ৮৪ লাখ টন আমদানি পণ্য। আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় আমদানির শুল্কায়নযোগ্য মূল্যও ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে।

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে মোট আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৬৪২ কোটি টাকায়।

সেপ্টেম্বর মাসে শুল্কহারভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের চিত্রেও ভিন্নতা দেখা গেছে। ২৫ শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩৩ কোটি টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে, ৩ শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২৪১ শতাংশ।

এ ছাড়া ১০ শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য আমদানি থেকে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা, ৫ শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য থেকে ৮৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ১৫ শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য থেকে ৫৯০ কোটি টাকা, শূন্য শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য থেকে ৮০৪ কোটি টাকা এবং ১ শতাংশ শুল্কহারযুক্ত পণ্য থেকে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমীন জানান, রাজস্ব আদায় মূলত আমদানির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ কম থাকায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। প্রথম প্রান্তিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি থাকলেও আগামী মাসগুলোতে তা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মো. মুসা বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। রাজস্ব আদায় ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। তবে রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আনা জরুরি। তাহলে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ব্যাপক কার্যক্রম জড়িত। কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের একটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, রাজস্ব আদায় অনেকাংশে আমদানির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল হবে বলে আমরা মনে করি।

কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, কাস্টম হাউস আমদানি পণ্যচালানের বিপরীতে শুধু রাজস্ব আহরণই করে না; একই সঙ্গে দেশে ভোগ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহব্যবস্থা বজায় রাখা, শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় শিল্পকারখানাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার বিষয়েও নজর রাখে।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: