ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের অনুষ্ঠানমালাকে মাদকমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে মেলার মাঠ থেকে গাঁজা সেবনের প্রায় দুই হাজার পিস কলকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কুমারখালীর লালন আখড়াবাড়ির মেলার মাঠ থেকে এসব কলকে উদ্ধার করা হয়। এগুলোর বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি। উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযান বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তায় প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যের একটি দল আখড়াবাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, লালন মেলার সময় আলোচনা মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলে। ছেঁউড়িয়া এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সারাদেশের মানুষ মনে করেন, লালন মেলা মানেই মাদকের আড্ডা। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রশাসন পাহারা দিলেও অতীতে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এবার যেন মেলা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত থাকে।”
কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহান বলেন, “তিরোধান দিবসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। তবে একটি চক্র উন্মুক্ত স্থানে দল বেঁধে মাদক সেবন করে। এতে প্রকৃত বাউল-সাধক ও সচেতন নাগরিকেরা ক্ষুব্ধ হন। আমরা চাই, এবারের উৎসব পুরোপুরি মাদকমুক্ত হোক।”
মাদকের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সাধকদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সাধক ও ভক্তরা। চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ৩০ বছর ধরে আখড়াবাড়িতে আসা শান্ত ফকির বলেন, “গাঁজার সঙ্গে ফকির লালনের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত সাধু-ভক্তরা কখনোই এর সঙ্গে জড়িত থাকেন না। আমরাও চাই একটি মাদকমুক্ত অনুষ্ঠান।”
আসন্ন এই উৎসব প্রসঙ্গে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় উৎসবটি মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। আজকের অভিযানে প্রায় দুই হাজার পিস কলকে জব্দ করা হয়েছে। মাদক প্রতিরোধে আমাদের এই অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে।”
লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “এবার একটি সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত লালন উৎসব উপহার দিতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর।”
উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানমালায় অংশ নিতে দেশ-বিদেশের লাখো বাউল, সাধক ও লালনভক্তের সমাগম ঘটবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার এই আখড়াবাড়িতে।