
গ্রামের গুরুদাস মণ্ডলের বাড়ির আঙিনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিল বেসরকারি উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এবং গ্রিন কোয়ালিশন-মানিকগঞ্জ।
গ্রামীণ নারী কৃষকদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নারীদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার, গ্রিন কোয়ালিশন-মানিকগঞ্জের সভাপতি আব্দুল খালেক ও বারসিকের জেন্ডার অ্যাডভাইজার খাদিজা সুলতানা লোপা।
গ্রিন কোয়ালিশনের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কমিটির সদস্য আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়, কর্মসূচি সমন্বয়কারী রাশেদা আক্তার এবং স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের সমন্বয়ক খালেদা মাহবুব ছন্দা।
বারসিক কর্মকর্তা আয়েশা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে বক্তব্য দেন আঁখি আক্তার, ফাতেমা বেগম ও পারভীন বেগম।
এবারের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারীর জ্ঞান, সমৃদ্ধ বাঁচার পরিবেশের প্রাণ’। অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান ছাড়াও দেশীয় বীজ ও অপ্রচলিত উদ্ভিদের বৈচিত্র্য প্রদর্শন, গ্রামীণ খাবার ও পিঠার প্রদর্শনী, কৃষি উপকরণ এবং নারীদের উদ্ভাবিত কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, গ্রামীণ নারীদের জ্ঞান, শ্রম, অধিকার ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ নারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, শ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের এই অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।