
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা জানান, সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর তাঁরা আন্দোলন করেন। তখন শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে নির্ধারিত দিনে বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এরপরও শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিতে গুরুত্ব না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। তবে শ্রমিকেরা ওই প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে মহাসড়কে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
একপর্যায়ে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
তিনি বলেন, সি স্টেজ বিডি লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা অবরোধ অব্যাহত রাখলে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ সঠিক নয়।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।