সাম্প্রতিক ‘চল্লিশ দিনের যুদ্ধ’-এর পরবর্তী সময়ে ইরানের ইসলামি রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অস্ত্রাগারে আরও উন্নত ও আধুনিক মারণাস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি কঠোর ও জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বার্থ: আইআরজিসির মুখপাত্র উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অবাস্তব ও অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত হবে। তবে এরপরেও যুদ্ধের বড় ধরনের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা রয়ে গেছে। তাঁর মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সাফল্য বা একটি ‘জয়’ নিজেদের ঝুলিতে ভরার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো অবিবেচকের মতো হঠকারী পদক্ষেপ নিতে পারে।
আধুনিক অস্ত্রের সমাহার: ‘৪০ দিনের যুদ্ধ’-এর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্রে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি: মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সংঘাত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য ও উপযুক্ত খেসারত দিতে হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই নতুন ও কঠোর সতর্কবার্তা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।