ইউক্রেনে অবস্থানরত বিশ্বখ্যাত মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার কারণে মার্কিন বাজারে তেলের দাম বাড়ছে বলে কিইভের ওপর ওয়াশিংটন কড়া চাপ সৃষ্টি করছে, সেখানে স্বদেশের নামীদামী প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের এমন দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রধান দিকগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
কোকা-কোলা, পেপসিকো ও ম্যাকডোনাল্ডসে আঘাত: গত কয়েক মাসে ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের অন্তর্ভুক্ত মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার মাত্রা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর কিয়েভের বাইরে কোকা-কোলার কারখানায় ইরানি প্রযুক্তির ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। এর কয়েক সপ্তাহ পর কিয়েভ অঞ্চলে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার সরবরাহকারী প্রধান গুদামে হামলা চালিয়ে ক্ষতিসাধন করা হয়, যার ফলে ইউক্রেনের রেস্তোরাঁগুলোতে বর্তমানে সীমিত মেনু চালু রাখতে হচ্ছে। এর আগে আগস্টে মাইকোলাইভ অঞ্চলে পেপসিকোর একটি উৎপাদন কেন্দ্রও রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জেলেনস্কি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মস্কোর একটি ‘স্পষ্ট ও পরিকল্পিত সংকেত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানান, মস্কো সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মেরে বার্তা দিচ্ছে যে মার্কিন ব্যবসা তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু। নিজেদের ‘ব্যবসাবান্ধব’ দাবি করা ট্রাম্প প্রশাসন স্বদেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়ীদের রক্ষায় কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানোয় তিনি চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জ্বালানি বিতর্ক ও ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি: এই নীরবতা ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থানের সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। এমনকি রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ না করলে কিয়েভকে সামরিক সাহায্য ও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধের হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু একই সময়ে নিজ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো ধ্বংস হতে দেখেও হোয়াইট হাউস নিশ্চুপ রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের সাড়া না দেওয়া: প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার মূলত ইউক্রেন ইস্যুটির দেখভাল করছেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স মার্কিন ব্যবসার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য কুশনার ও উইটকফের সাথে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানালেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো জবাব মেলেনি।
যদিও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনের কাছে দাবি করেছেন যে ট্রাম্প মূলত যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক চেষ্টা করছেন, তবে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।