সৌদি আরবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আতঙ্কে প্রবাসীরা; পরিবার নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির রাজধানী রিয়াদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার

2026-10-13T20:41:57+00:00
2026-10-13T20:41:57+00:00
  বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সৌদি আরবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আতঙ্কে প্রবাসীরা; পরিবার নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির রাজধানী রিয়াদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার খবর ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে বসবাস করা বিদেশিদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পরিবারকে নিজ দেশে পাঠানোর কথা ভাবছেন—এমন উদ্বেগও জানিয়েছেন কয়েকজন প্রবাসী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। হামলার ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের ভূমিকা এবং সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাব দিতে তারা এসব আক্রমণ চালিয়েছে।

বিমানবন্দরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ছোটাছুটির দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় সফরে মক্কায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের এমন পরিস্থিতিতে পড়ার ঘটনায় প্রবাসীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রিয়াদে সাত বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল। সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন থাকায় আপাতত দেশ ছাড়তে চান না তিনি। তবে হামলা বাড়তে থাকলে পরিবারকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিলালের মতে, বেসামরিক মানুষ ও ধর্মীয় সফরে আসা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

সৌদি আরবে বিভিন্ন সময়ে বসবাস করা আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার সন্তানদের মধ্যেও হামলার খবর আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু বিদেশির দেশে ফেরার পরিকল্পনার খবরের পর সন্তানদের আশ্বস্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদের ভাষ্য, একসময় রিয়াদকে পরিবার নিয়ে বসবাসের নিরাপদ জায়গা মনে হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণায় পরিবর্তন এনেছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি হামলার প্রভাব পড়তে পারে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন সম্প্রসারণ, বিনোদন খাতের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কেন্দ্র হিসেবে দেশটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। রিয়াদে একটি জ্বালানি সম্মেলনে প্রত্যাশার তুলনায় কম প্রতিনিধির উপস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক আয়োজন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ সামনে থাকায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশের বার্তা দেওয়া সৌদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইয়েমেনে হুথিদের উত্থান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট দেখা দেয়। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা সেই পুরোনো সংঘাতকে আবারও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বড় উদ্বেগে পরিণত করেছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি ও বাণিজ্যিক পরিকল্পনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি কিনেছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক উপসাগরীয় বিশ্লেষকের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়লেও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ সহযোগিতা বাস্তবে কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে প্রবাসী কর্মীদের দৈনন্দিন জীবন, পরিবারের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও।

সৌদি আরবে বসবাসরত অনেক বিদেশির কাছে চাকরি, আয় ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবার নিয়ে থাকা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও সামনে আসতে পারে।

তবে হামলার খবরের ভিত্তিতে সৌদি আরবের সব অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একই রকম বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি নির্দেশনা ও নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের পরামর্শ অনুসরণ করাই প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: