ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর বিষয়ে হুট করেই সুরে পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওহাইও অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরানি নেতৃত্বকে নিশানা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি দূর এগিয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক মন্তব্যের মূল কারণ হলো—শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক হামলার ফলে ইরানের বর্তমান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের কাঠামো এতটাই অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে যে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ঠিক কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক বা আলোচনা করবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল-জাজিরা ও দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার মূল কারণ ও রাজনৈতিক চালচিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও যোগাযোগের সংকট: ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করার পর ওয়াশিংটন বুঝতে পারছে যে, তেহরানের সঙ্গে কার্যকর সংলাপে বসার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কাকে বার্তা পাঠানো হবে বা কার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে—সেই জটিলতাই ট্রাম্পের সুর বদলে যাওয়ার প্রধান কারণ।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের তীব্র মানসিক চাপ: আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ওয়াশিংটনে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। এমারসন কলেজের জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বর্তমানে ৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন মাত্র ৪২ শতাংশ।
জ্বালানি সংকট ও জন অসন্তোষ: ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এমারসন কলেজের জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বা কাজের প্রতি সন্তুষ্টির হার নেমে এসেছে ৩৯ শতাংশে, বিপরীতে ৫৮ শতাংশ আমেরিকান তাঁর নীতিতে অসন্তুষ্ট।
কংগ্রেসে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: ৩ নভেম্বরের ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ৩৫টি আসন এবং ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ বহু স্থানীয় পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্র্যাটদের কেবল প্রতিনিধি পরিষদে ৪টি এবং সিনেটে ৪টি অতিরিক্ত আসন দরকার রিপাবলিকানদের হাত থেকে শাসনক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে নেওয়ার জন্য।
পুতিনের সমঝোতা কিংবা ওহাইও ও টেক্সাসের মতো শক্ত ঘাঁটিগুলোতে নিজে নেমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো সত্ত্বেও, অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কার মুখোমুখি হতে পারে—এমন হিসেব-নিকাশ থেকেই ট্রাম্পের কথায় কিছুটা নমনীয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে।