ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে হামলা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্তদান করার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবরাজের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন একাধিক প্রাসাদে গোপন ও সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে এবং তাঁর সুরক্ষায় একটি বিশেষ টিম নিয়োজিত রয়েছে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘাত চরম আকার ধারণ করায় এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরব গত দশ বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর হামলার শিকার হয়। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা। হামলার পর থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটি চার দফায় হামলার মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
সৌদি ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
এই ধ্বংসাত্মক হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, এর জবাবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকবে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখছেন। এছাড়া সৌদি আরবের মক্কা চুক্তিভুক্ত মিত্ররাও এই বিপদের দিনে রিয়াদের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে আসছে। ২০২২ সালে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সংঘাতের জেরে সেই সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে যায়।