কৃষ্ণ সাগরে ড্রোনের তাণ্ডব, ডুবল জাহাজ—নিখোঁজ ১১ নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত ১১ নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে জীবিত

2026-10-13T17:09:55+00:00
2026-10-13T17:09:55+00:00
  বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কৃষ্ণ সাগরে ড্রোনের তাণ্ডব, ডুবল জাহাজ—নিখোঁজ ১১ নাবিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত ১১ নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই রাতে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই অঞ্চলে জাহাজডুবির দ্বিতীয় ঘটনা এটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বুলগেরীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, রাতের আঁধারে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে ক্রাপেটস গ্রামের উপকূলের কাছে একটি জাহাজ ডুবে যায়। বুলগেরীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘আজভ কনকর্ড’। এতে থাকা পাঁচ নাবিককে উদ্ধার করা হলেও আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

জাহাজটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বুলগেরীয় কর্মকর্তারা জানান, মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি ৩’ নামের আরেকটি জাহাজও একই রাতে তিনটি ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে সাতজন ইউক্রেনীয় ও আটজন আজারবাইজানি নাবিক ছিলেন। তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কেউ গুরুতর আহত হননি।

এর এক সপ্তাহ আগে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নয়জন সিরীয় ও একজন মিসরীয় নাবিক নিখোঁজ হন। একই রাতে আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হলেও সেটির নাবিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পরপর জাহাজে হামলা ও ডুবির ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বুলগেরিয়া। তবে হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি দেশটি।

বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, এ ঘটনার ফলাফল ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের অনুকূলে’। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার একেবারে কাছাকাছি এ ধরনের আরেকটি হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, কৃষ্ণ সাগর ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির আরেকটি রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এ হামলা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি মস্কোর অবহেলার বিষয়টি আবারও তুলে ধরেছে। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৃষ্ণ সাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া এ অঞ্চলে হামলা চালিয়ে খাদ্যাভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচল দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের অংশ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই দেশই বিশ্বের প্রধান শস্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে।

রাশিয়া নিয়মিত ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এতে ইউক্রেন দানিউব নদীর বন্দর এবং ন্যাটো সদস্য বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার উপকূলের কাছাকাছি নৌপথের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও কৃষ্ণ সাগরের বিভিন্ন অংশে এবং ডন নদীর মোহনায় অবস্থিত আজভ সাগরে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ধারাবাহিক এসব হামলায় কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: