ইয়েমেন থেকে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভয়াবহ আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। রাজকীয় রিয়াদ ও ধাহরানের আকাশে ঘন ঘন বেজে উঠছে সাইরেন, আর মাঝ আকাশেই চলছে প্রাণঘাতী সংঘাত।
ধাহরানের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা: মঙ্গলবার গভীর রাতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানের বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠা ওই প্রাঙ্গণে বহুতল ভবনটির একাংশ পুড়ে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
রিয়াদের আবাসিক এলাকায় ধ্বংসাবশেষ: রিয়াদের আকাশে উড়ে আসা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝ আকাশেই প্রতিহত করে। তবে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র দুটির বিশালাকার ধ্বংসাবশেষ জনবহুল আবাসিক এলাকায় পড়ে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও যানবাহন তছনছ করে দেয় এবং বহু সাধারণ নাগরিক আহত হন।
কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা: ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের চার দফায় চালানো হামলায় কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৩ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর ফলে বিমানবন্দরটিতে প্লেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের হামলার তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সৌদি যুবরাজ জনসমক্ষে আসা বন্ধ রেখেছেন এবং তাকে সুরক্ষিত বাঙ্কারযুক্ত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পাল্টা প্রতিশোধের রাজনৈতিক সমীকরণ: ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের বিমানবাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর ঠিক পরেই হুথিরা এই প্রতিশোধমূলক ও জোরালো আক্রমণ চালায়। বিদ্রোহীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যতদিন ইয়েমেনের ওপর বিমান হামলা ও অবরোধ বন্ধ না হবে, ততদিন রিয়াদ থেকে ধাহরান কোথাও কোনো শান্তি থাকবে না।
সৌদি সামরিক জোটের পক্ষ থেকে হুথিদের এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সানার আল-সাবাহ থেকে শুরু করে হোদেইদাহ ও রাস ইসা বন্দর পর্যন্ত হুতিদের গোপন আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজকীয় সামরিক জোট।