
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর অর্থায়নে উপজেলার মাঝিড়া মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মাঝিড়া মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত চারা বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হোসেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম দুদু, সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমসহ শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ রানা, প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ আল মোনাইম, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ তমেজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল বাশার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শাহিন সানি, বিএনপি নেতা এনামুল হক এনাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা তাজুল ইসলামসহ অনেকে।
চারা বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশদূষণ, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বৃক্ষসম্পদ সংরক্ষণও জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া চারাগুলো বাড়ির আঙিনা বা উপযুক্ত স্থানে রোপণ করে নিয়মিত পানি দেওয়া, পরিচর্যা ও সুরক্ষার মাধ্যমে বড় করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু চারা বিতরণ বা রোপণ করলেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য সফল হবে না। রোপণ করা চারাগুলো বাঁচিয়ে রাখা এবং পরিপূর্ণ বৃক্ষে পরিণত করার মধ্য দিয়েই এ ধরনের উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে নেওয়া এ উদ্যোগ তাদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের অন্য সদস্যদেরও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হতে উৎসাহিত করবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া এক হাজার চারা যথাযথ পরিচর্যায় বেড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।