ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর পশ্চিম চেঁচরীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ৯৫০ কেজি রড বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার রড বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি ভ্যানগাড়িতে করে পুরোনো রড নিয়ে যাচ্ছেন এক ভাঙারি ব্যবসায়ী। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি রডগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী দাবি করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির লোকজন মিলে রডগুলো বিক্রি করেছেন। তবে ভিডিওতে রডগুলো কোন বিদ্যালয়ের, তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের জন্য পুরোনো সিঁড়িকক্ষ ভাঙার সময় বিপুল পরিমাণ রড পাওয়া যায়। পরে সেগুলো বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এসব রডের সঙ্গে পূর্ববর্তী শিক্ষকের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার তালিকায় (চার্জ লিস্ট) উল্লেখ থাকা ৬৫ কেজি রডের কোনো সম্পর্ক নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চার্জ লিস্টে থাকা ৬৫ কেজি রড ছিল ঠিকাদারের রেখে যাওয়া অতিরিক্ত টুকরা রড। অন্যদিকে, সিঁড়িকক্ষ ভাঙার সময় পাওয়া পুরোনো রডগুলো বিদ্যালয়ের কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত জানান, রডগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানগাড়িতে তোলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাতে কিছু রড বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এনে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময়ও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সিফাত। তাঁর আরও দাবি, রড বিক্রির বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার। তিনি বলেন, বিদ্যালয় থেকে কোনো রড বিক্রি করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। তাঁর দাবি, বহিরাগত কিছু ছেলে রাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করত। তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল বলেন, গত ৭ অক্টোবর রড বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ৮ অক্টোবর তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। ওই সময় বিদ্যালয়ের স্টোররুমে রড পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের তালিকায় উল্লেখ থাকা রড এবং বিক্রির অভিযোগ ওঠা রড এক নয়—এমন তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের পুরোনো রড বিক্রির অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ঘিরে এখন এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে রডের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও বিক্রির ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।