বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও কৃষকের ভাগ্যের চাকা তেমন একটা বদলায়নি। নতুন নতুন প্রযুক্তি, উন্নত জাত আবিষ্কার হলেও কৃষক যেন সেই আগের চিরচেনা দুঃখ-কষ্টের মাঝে মিশে আছে। তাদের এই দুঃখ নিরসনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অনেক পূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কৃষিতে লক্ষণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নিজে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সাথে কাজ করেন, ফসল ফলানোয় উৎসাহিত করেন সাধারণ কৃষকদের।
তিনি তার বক্তব্যে কৃষকদের পাশাপাশি মহিলাদেরও কৃষি কাজ করার মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধির ও স্বাবলম্বী হওয়ার নির্দেশনা দেন।শুধু নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি কৃষি উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যার মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি অন্যতম। ১৯৭৫-এর পরে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে জিয়াউর রহমান কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি ব্যাপকভাবে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি করেন, যা গবেষকদের কাছে "জিয়া মডেল" নামে পরিচিত। যার ফলে প্রায় দেড় হাজারের বেশি খাল খনন করা হয় এবং সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন ঘটে। ১৯৭৯-১৯৮১ সালের মধ্যে ২৭৯ কোটি টাকার মাধ্যমে ৩৬৩৬ মাইল খাল খনন করেন। এই খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের পানি সমস্যা নিরসন হয়। অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। খালের দুই পাশে বাঁধের উপর বিভিন্ন ফলজ গাছ লাগিয়ে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
"ভালো বীজে ভালো ফসল" অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদনের পূর্বশর্ত হলো উন্নত মানের বীজ। উন্নত মানের বীজ নিশ্চিত করতে ১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে তিনি জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ (Seed Ordinance) প্রণয়ন করেন। গ্রামীণ উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য 'গ্রাম সরকার' ব্যবস্থা চালু করেন, যা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার এক নতুন মডেল ছিল। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিনা জামানতে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেন, যার অংশ হিসেবে ১৯৭৭ সালে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়।
১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড (REB) প্রতিষ্ঠা করেন। যা গ্রামাঞ্চলকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে সাহায্য করে এবং সেচ প্রদানে সুবিধা নিশ্চিত করে। যা গ্রামীণ কৃষিতে যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছে।
যুবসমাজই একটা দেশের সবচেয়ে বড় ও সম্ভাবনাময় সম্পদ। এই যুবসমাজের একটা বড় অংশকে বেকার রেখে দেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। এটা চিন্তা করেই ১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেন এবং ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল বেকার যুবকদের হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও কৃষি ফসল এবং মৎস্য চাষে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। যা গ্রামীণ অর্থনীতির মূল কাঠামোকে করেছে দৃঢ় ও শক্তিশালী।
কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো বিভিন্ন সার, কীটনাশক। যা গাছের গুণগত মান ও ফসল বৃদ্ধির অপরিহার্য অংশ। সার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৭৬ সালে Bangladesh Chemical Industries Corporation (BCIC) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৮০০০ মেট্রিক টন। পাশাপাশি আরো কয়েকটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যা তিনি দেখে যেতে পারেননি কিছু দেশদ্রোহী কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করার জন্য।
১লা জুলাই ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সুগার মিলস কর্পোরেশন ও ফুড এন্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনকে একীভূত করে বাংলাদেশ সুগার এন্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ গঠন করেন।
এক দেশের কৃষির উন্নয়ন করতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি, উন্নত জাত আবিষ্কার করা অপরিহার্য। যার জন্য দরকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে Presidential Order No. XXXII এর বলে Bangladesh Agricultural Research Institute (BARI) আকার ধারণ করে। ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে তিনি দিনাজপুর নশিপুরে গম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে প্রথম চাল রপ্তানি করা হয় (১৯৮১ সালে)। তিনি একদিকে যেমন কৃষকদের মাঝে মিশে গিয়ে তাদের কাজকে উৎসাহিত করেছিলেন অন্যদিকে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সার কারখানা সহ অন্যান্য কৃষি সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন করে দেশের কৃষির সার্বিক গতিবিধির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে স্বৈরশাসক এরশাদ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে শহীদ জিয়ার বাস্তবায়িত কৃষি উন্নয়নকে ধ্বংস করে জাতির কৃষি উন্নয়নের অপূরণীয় ক্ষতি করে। কৃষকদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথে হাঁটেন। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্বলতা দূরীকরণে এক বাড়ি এক খামারকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন। বিধবা মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তাদের বিনামূল্যে ছাগল পালনের ব্যবস্থা করে দেন।
এভাবে বিএনপির হাত ধরে ধীরে ধীরে কৃষি যখন নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করলো তখনই ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে নিয়ে কৃষি সহ দেশের সকল সেক্টরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পুনরায় দেশের কৃষি ও অর্থনীতি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়।ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হওয়ার পর জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও সরকার গঠন করে এবং বাংলাদেশের আশা আকাঙ্ক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয় বিএনপি সরকার।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের মধ্যে যেন জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন তার পিতার পরিকল্পনার স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে। তার মধ্যে অন্যতম কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন যেমন - কৃষকদের সরাসরি প্রণোদনা,কৃষি ঋণ মওকুফ, ভর্তুকি, উন্নত বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সহজ ঋণ সুবিধা দিতে 'কৃষক কার্ড' চালু করা হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক খুব সহজে পণ্য ও ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করতে পারবেন। এছাড়াও সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ, সেচ সুবিধা, কৃষি বীমা সহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য জানতে পারবেন এই কৃষি কার্ড ব্যবহার করে।বিএনপি সরকার কৃষকদের স্বস্তি দিতে ১০হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ১২লাখ কৃষক উপকৃত হবেন,আর মোট প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফের আওতায় আসবে।
আগামী ৫ বছরে ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন আনা হবে। কৃষক স্বাবলম্বী হবে। খালের পাড়ে ফলদ ও বনজ উদ্ভিদ লাগিয়ে ফসল ও কাঠ উৎপাদন করতে পারবে। পাশাপাশি মৎস্য চাষেও উন্নয়ন হবে।
৫ বছরে ২৫কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ বদলে দিতে পারে আগামীর কৃষির সম্ভাবনার চিত্র। গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, মাটির উর্বরতা ধরে রাখা, ভূমিক্ষয় কমানো এবং কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সহায়তা করবে। পাশাপাশি ফলদ ও অর্থনৈতিক গাছের মাধ্যমে কৃষকরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের কৃষিকে আরও টেকসই ও কৃষকবান্ধব করে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এর সুফল শুধু আজকের কৃষক নয়, আগামী প্রজন্মও ভোগ করবে। তাই ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি কর্মসূচি হিসেবে নয়-কৃষক, পরিবেশ ও দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণের জন্য বিশেষ তহবিল (২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪০১.৬০ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে। ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতে ভর্তুকি এবং উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাম্প স্টোরেজকে বাস্তবায়ন করতে চলেছে বর্তমান তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। এই কাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ হবে। এ বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪ জেলার পানির সংকট নিরসন হবে। ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ নিশ্চিত হবে। বছরে ২৪ লাখ টন বাড়তি ধান উৎপাদন হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বর্তমান সময়ে কৃষি খাত অনেক বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে সরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় 'ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি' বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ফসল চাষ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন, Alternate Wetting and Drying পদ্ধতি প্রয়োগ করে খরা প্রবণ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, মোবাইল অ্যাপস (খামার অ্যাপ) ব্যবহার করে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী ফসল উৎপাদন করা।
ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষকদের কল্যাণে "কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা" খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭০০ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পতিত জমি আবাদের আওতায় আনার জন্য "জোনিং" পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে জমির অপচয় কম হবে সাথে অধিক ফসল উৎপাদন হবে।
এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কৃষি কাজ করতে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও অসহায় মহিলাদের আর্থিক সহযোগিতা দান করা হবে, যার মাধ্যমে গ্রামের মহিলারা ছোট ছোট কৃষি কার্যক্রম (হাঁস-মুরগী পালন, বাড়ির আঙিনায় শাকসবজির চাষ ইত্যাদি) সহজে করতে পারবেন, এর ফলে পরিবারগুলো নিজেরা খাদ্যাবলম্বী হবেন।
এছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই দেশের কৃষক লাভবান হবেন ও দেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ তারেক রহমানের বিএনপি সরকার পূরণ করতে বদ্ধপরিকর।
জাহিদ হাসান
শিক্ষার্থী, কৃষি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক সভাপতি, নোবিপ্রবি ছাত্রদল।