আত্মপ্রবঞ্চনা ও দাসত্বের শৃঙ্খল: যে ‘অহমিকা’ মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে দেয়

মতামত

আমরা একটি পঙ্গু ও মেরুদণ্ডহীন সমাজে বসবাস করছি, যেখানে প্রত্যেকেই সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে

2026-10-05T14:10:21+00:00
2026-10-05T14:10:21+00:00
  শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬,
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
আত্মপ্রবঞ্চনা ও দাসত্বের শৃঙ্খল: যে ‘অহমিকা’ মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে দেয়
-মো: সাদ্দাম হোসাইন
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ পিএম 
আত্মপ্রবঞ্চনা ও দাসত্বের শৃঙ্খল: যে ‘অহমিকা’ মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে দেয়
আমরা একটি পঙ্গু ও মেরুদণ্ডহীন সমাজে বসবাস করছি, যেখানে প্রত্যেকেই সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারে কজন? যখনই আমরা ব্যর্থতার চোরাবালিতে তলিয়ে যাই, তখনই নির্লজ্জের মতো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা বা ভাগ্যকে দোষারোপ করি। কিন্তু একবারও কি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নগ্ন স্বরূপ বিশ্লেষণ করেছি?

সত্যিকার অর্থে, আমাদের সফলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা বাইরের কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি নয়; বরং আমাদের নিজেদের ভেতরের 'অহমিকা' বা হীনম্মন্যতা। এই আত্মপ্রবঞ্চনা ও দাসত্বের শৃঙ্খলগুলো আমাদের অজান্তেই সফলতার পথে অদৃশ্য প্রাচীর তুলে দিচ্ছে। নিচে এমন ১০টি মানসিকতার কথা তুলে ধরা হলো, যা আপনাদের প্রতিনিয়ত পিছিয়ে রাখছে:

১. দায় এড়ানোর কাপুরুষতা (The Blame Ego):
নিজের ব্যর্থতার জন্য রাষ্ট্র, সমাজ বা পারিপার্শ্বিকতাকে দোষারোপ করা মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষদের কাজ। যারা এই হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তারা কখনোই নিজের ভুল স্বীকার করার মতো নৈতিক সাহস রাখেন না। নিজের দায় অন্যের কাঁধে চাপানোর এই নির্লজ্জ প্রবণতা আমাদের উন্নতির পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়।

২. ‘সবজান্তা’ মূর্খতা (The Know-It-All Ego):
"আমি সব জানি"—এই একটি দাম্ভিক উক্তিই একজন মানুষের বৌদ্ধিক পতনের জন্য যথেষ্ট। যারা মনে করেন তাদের নতুন করে জ্ঞানার্জনের কিছু নেই, তারা মূলত অন্ধকারের কূপমণ্ডূক। শেখার মানসিকতা না থাকলে নতুন সম্ভাবনাগুলো চিরকাল দৃষ্টিসীমার আড়ালেই থেকে যায়।

৩. অহেতুক ভীতি (The Fearful Ego):
"যদি আমি ব্যর্থ হই?"—এমন অমূলক ভীতি আমাদের নতুন কিছু করার উদ্যমকে গলা টিপে হত্যা করে। মনে রাখবেন, ভয় বা শঙ্কা হলো নিছকই আমাদের মস্তিষ্কের তৈরি করা কিছু অবাস্তব বিষয়। একজন লড়াকু মানুষের অভিধানে 'ভয়' বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না।

৪. আপসকামী প্রবৃত্তি (The Comfort Zone Ego):
বর্তমান অবস্থা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা মানেই আপসকামী জীবন বেছে নেওয়া। আপনি যখন আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের মোহজালে আটকে পড়েন, তখন আপনার বিকশিত হওয়ার সমস্ত পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বিনা যুদ্ধে, বিনা চ্যালেঞ্জে কোনো মহৎ অর্জন সম্ভব নয়।

৫. অজুহাত খোঁজার অপকৌশল (The Excuses Ego):
সময় নেই, অর্থ নেই, বা পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই—এগুলো আসলে কর্মবিমুখ মানুষের তৈরি করা সুনিপুণ মিথ্যার আবরণ। জীবনে হয় আপনি ইতিহাস গড়বেন, নয়তো অজুহাতের ডালি সাজাবেন। দুটো কখনোই একসাথে চলতে পারে না।

৬. তোষামোদি ও তাঁবেদারি মানসিকতা (The People-Pleasing Ego):
সবাইকে খুশি রেখে, সবার মন জুগিয়ে জীবনে বড় কিছু করা যায় না। এটি স্তাবক ও তাঁবেদারদের বৈশিষ্ট্য। নিজের স্বপ্ন ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে চারপাশের মানুষকে তুষ্ট করতে গেলে নিজের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। চূড়ান্ত সফলতার জন্য নিজের লক্ষ্যের প্রতি আপসহীন হওয়া অপরিহার্য।

৭. ব্যর্থতার নির্লজ্জ সাফাই (The Justification Ego):
নিজের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা ঢাকতে বয়স, পারিবারিক অবস্থা বা সামাজিক প্রেক্ষাপটের দোহাই দেওয়া এক চরম নির্লজ্জতা। নিজের দুর্বলতাকে যৌক্তিক প্রমাণের বৃথা চেষ্টা না করে, তাকে শক্তিতে পরিণত করার মতো মানসিক দৃঢ়তা অর্জন করতে হবে।

৮. পরশ্রীকাতরতা ও নিচতা (The Jealous Ego):
অন্যের সাফল্য দেখে যারা ঈর্ষায় জ্বলে পুড়ে মরে, তারা মূলত নিজেদের নিচ মানসিকতারই প্রমাণ দেয়। সফল মানুষদের চরিত্রহনন করা বা তাদের সাফল্যের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য খোঁজা নিজেদের চরম ব্যর্থতা ও হীনম্মন্যতারই বহিঃপ্রকাশ।

৯. লোকনিন্দার ভয় (The Other People's Opinions Ego):
"লোকে কী বলবে"—এই দাসসুলভ চিন্তার কারণে কত অমিত সম্ভাবনা যে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। সমালোচক ও নিন্দুকদের ভয়ে নিজের আদর্শ ও পছন্দের কাজ থেকে পিছিয়ে আসার মানে হলো নিজের স্বপ্নের সঙ্গে প্রতারণা করা।

১০. কর্তৃত্ববাদের দম্ভ (The Do-It-Yourself Ego):
সবকিছু নিজের একক কর্তৃত্বে রাখার অদম্য লোভ এবং অন্যের যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা সফলতার পথে একটি মস্ত বড় বাধা। এটি মূলত একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতার ব্যক্তিগত রূপ। কোনো বৃহৎ লক্ষ্য একা অর্জন করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

পরিশেষ:
সফলতা কোনো সস্তা জনপ্রিয়তা নয় যে চাইলেই পাওয়া যাবে। এটি একটি আপসহীন সংগ্রাম, যার শুরুটা হয় নিজের ভেতরের কাপুরুষতাকে পরাজিত করার মাধ্যমে। উল্লিখিত ১০টি অহমিকা বা দাসসুলভ মানসিকতার কোনোটি যদি আপনার ভেতরে বাসা বেঁধে থাকে, তবে আজই তা সমূলে উৎপাটন করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার এই মিথ্যা অহংকার কি আপনার আত্মমর্যাদা ও স্বপ্নের চেয়েও বড়? আজই ঘুরে দাঁড়ান, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে শিখুন। কারণ, আপনার সফলতার পথে সবচেয়ে বড় শত্রু বাইরের কেউ নয়, আপনি নিজেই।

জনসংযোগ কর্মকর্তা
আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স



Loading...
Loading...

মতামত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: