
জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দুই হাতবিহীন শিক্ষক দুখু মিয়ার পাঠদান নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির নিবন্ধন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া বলেন, “বর্তমান সরকারপ্রধান আমার বিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, সেটা জেনে আমি আনন্দিত। আমার স্বপ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা। আশা করছি, সরকার ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিভা দুখু মিয়া বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ হবে।”
২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় পৈতৃক জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন দুখু মিয়া। বর্তমানে এখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া আলতাফ হোসেন শৈশবেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। তাঁর বাবা কালি ও কঞ্চির সাহায্যে কলাপাতায় লিখতে শেখান তাঁকে। পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।
শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি পাননি দুখু মিয়া। পরে জমি বিক্রি করে এবং নিজের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই বছরের পর বছর ধরে পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে পাঠদান করে যাচ্ছেন এই শিক্ষক।