
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি হলেই নুনুজ বাজারের অত্যন্ত ব্যস্ত তিনমাথা মোড়টি ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের খানাখন্দে পানি জমে কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে এ হাট থেকে হাজার হাজার টন ধান ও আলু পরিবহনে ভারী ট্রাক চলাচল করে। এ ছাড়া প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেলচালকদের ঝুঁকি নিয়ে কাদা-পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে।
সপ্তাহের রবি ও বুধবার নুনুজ হাটের প্রধান হাটবার। হাটে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট রাস্তা না থাকায় ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ছাড়া হাটের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
হাটে বসার জায়গা না পেয়ে অন্যের জায়গায় বসে পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানান বাসিলাপাড়া গ্রাম থেকে জালি কুমড়া বিক্রি করতে আসা জামিরুল ইসলাম।
ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে মোড়টির এমন বেহাল দশা থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এ হাটে প্রচুর ধান ও আলু আমদানি হয়। হাটের সব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’
মালামাল পরিবহনে যুক্ত ট্রাকচালক জামাল বলেন, ‘সারা বছরে নুনুজ বাজার থেকে অন্তত ২৫০ বস্তা ধানবোঝাই শতাধিক ট্রাক নিয়ে যাই। তিনমাথা মোড়টি বর্তমানে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে গাড়ি পার করার সময় প্রতিটি মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কয়েকবার বড় ধরনের বিপদেও পড়েছি।’
হাটের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তরকারি ও মসলা ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী ও কাশেম বলেন, বাজারে প্রবেশের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। রাস্তা না থাকায় হাটের ভেতরে মালামাল নেওয়া খুবই কষ্টকর। জায়গা না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী এ বাজার ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সরকার তাঁদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেলেও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে নজর নেই।
নুনুজ হাটের ইজারাদার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের জন্য ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে এ হাট ইজারা নিয়েছি। কিন্তু ড্রেন, কসাইখানা এবং কাঁচাবাজারে প্রবেশের সুব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন ক্রেতা-বিক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে আমাকে বিপুল লোকসানের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। অবিলম্বে হাটটির অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
হাটের সমস্যা ও দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘নুনুজ হাটের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আমার নজরে এসেছে। দ্রুত হাটের জায়গা সম্প্রসারণ করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’