রাউজানে বাবার কবরের পাশে শায়িত রোটন, জানাজায় সতর্ক অবস্থানে পুলিশ-বিএনপি

রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

সারাদেশ

চট্টগ্রামের রাউজানে পারিবারিক বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক

2026-10-12T17:07:34+00:00
2026-10-12T17:07:34+00:00
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রাউজানে বাবার কবরের পাশে শায়িত রোটন, জানাজায় সতর্ক অবস্থানে পুলিশ-বিএনপি
রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম 
রাউজান (চট্টগ্রাম): বাড়ির উঠানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামের রাউজানে পারিবারিক বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনকে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাউজান পৌরসভার গহিরা বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা ও দাফন ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন রোটনের স্বজন মাওলানা মঈনুল হায়দার চৌধুরী। এর আগে বক্তব্য দেন তাঁর বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন, একই বাড়ির বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা জুয়েল চৌধুরীসহ স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিরা। জানাজা শেষে বাড়ির পাশের সামাজিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

ওই কবরস্থানে পাকিস্তান আমলের জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা এ কে এম ফজলুল কবির চৌধুরী এবং বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শায়িত আছেন।

জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রোটনের বড় ভাই মিল্টন চৌধুরী। জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, একই বাড়ির সদস্য হিসেবে রোটনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহজাহান সাহিল বলেন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তাঁরা মাঠে ছিলেন। অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকে স্বজনদের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা বা মব সৃষ্টি ঠেকাতে সতর্ক ছিলেন তাঁরা। নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান দিয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখা হয় বলে জানান তিনি।

উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, জানাজা ও দাফন নির্বিঘ্ন করতে তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফুল নিয়ে আসা কয়েকজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জানাজায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনেকে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। জানাজায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক আ.স.ম. ইয়াছিন মাহমুদ রোটনকে জাতীয় রাজনীতির একজন পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে দলের কঠিন সময়ে রোটন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেছেন।

এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রোটনের মরদেহবাহী কফিনের গাড়ি তাঁর পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছায়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে মারা যান মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৪ অক্টোবর রাতে তাঁকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া রোটন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হয়েছিলেন রোটন।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: